॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

বান্দরবানের লামা উপজেলায় অনুমোদনহীন প্রায় ৩০টি ইট ভাটায় অব্যাহতভাবে চলছে পরিবেশ বিরোধী পাহাড় কাটার উৎসব। অবৈধ এসব ইট ভাটায় পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ডোজার ও স্কেবেটর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শুধুমাত্র লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নেই অবৈধভাবে ২৪টি ইট ভাটা গড়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রতাবশালী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে অবৈধ ইট ভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। প্রশাসনিক কোনো প্রতিকার না থাকায় পাহাড় কাটার এই অবৈধ কাজটি নির্বিঘেœ চলছে মাসের পর মাস।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা পরিচালক মো: মকবুল হোসেন বলেছেন, অবৈধ ভাবে ইট ভাটা বন্ধে প্রশাসনিক সকল দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে বান্দরবান জেলায় ইট ভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ধরণের ছাড়পত্র নাই। তারা অবৈধ ভাবে তারা ভাটা তৈরি করে আসছে।

সম্প্রতি বান্দরবান জেলা আইন শৃংঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ ইট ভাটা বন্ধ করার বিষয়ে একাধিকবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিবেশ সচেতন মহল বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলার শুধু লামা উপজেলায় ত্রিশটি ইট ভাটা স্থাপনের প্রন্তুতি প্রায় সম্পন্ন। চলতি বছরের আগষ্ট থেকে ইট ভাটা সমূহে ভোল্ড ড্রোজার ও স্ককভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে ভাটার মাটি প্রন্তুত করা হয়েছে। বর্তমানেও কিছু কিছু ইট ভাটায় পাহাড় কেটে মাটি কাটার কাজ চলছে।

এছাড়া আলীকদম,থানছি,নাইক্ষংছড়িতে ও বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইট ভাটায় পাহাড় কেটে ইট ভাটা নির্মাণ ও পরিচালনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ।

লামা উপজেলা ফাইতং ইউনিয়নের রাম্যখোলা, শিবাতলী পাড়া, কুইজ্যাখোলা, হরিণ খাইয়া, বড়বিল,
বাঙ্গালী পাড়ায় ২৪টি ইট ভাটায় নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইট পোড়ানো শুরু হবে। এছাড়াও গজালিয়া, সরই, ছাগলখাইয়া, হারগাজা, মালুম্যাসহ অবৈধ ইট ভাটা প্রস্তত করা হয়েছে। গত বছরও ফাইতং ইউনিয়নে ২২টি অবৈধ ইট ভাটায় ইট পোড়ানো হয়েছে। বর্তমান বছরে আরো ২টি নতুন করে বাড়ানো হয়েছে।

ফাইতং ইউবিএম ব্রিকস এর পরিচালক কবির আহম্মদ জানান, ইট ভাটা স্থাপনের বিষয়ে আমরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছি। তবে পরিবেশ সম্মত ভাবে ইট ভাটা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য আমাদেরকে বলা হয়েছে।
ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ফাইতং ইউনিয়নের ইট ভাটা স্থাপনের বিষয়ে কোন ধরণের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা উক্যমং ও হারিছ জানিয়েছেন, একই ইউনিয়নে ২৪টি ইট ভাটা স্থাপনের কারণে জনবসতি ও জীব বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

এলজিইডির ও সড়ক বিভাগের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ ইট ভাটার ইট পরিবহনের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট সহ স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বান্দরবান জেলা আইন শৃংঙ্খলা কমিটির গত ২৮ জুনের রাজস্ব সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলায় স্থাপিত অবৈধ সকল ইট ভাটা বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার লামা ও বান্দরবান সদরকে নির্দেশ দিয়ে গত ৫ জুলাই পত্র ইস্যু করা হয়েছে।

লামা উপজেলার নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খিনওয়ান নু জানিয়েছেন, লামা উপজেলা কার্যালয় হতে চলতি বছরের ১৭ আগষ্ট সকল অবৈধ ইট ভাটার মালিকদেরকে অবৈধ ইট ভাটা পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য পত্র দেওয়া হয়েছে।

এই উপজেলার কোন ইট ভাটার লাইসেন্স নাই। অবৈধ ইট ভাটায় পাহাড় কাটার দায়ে সম্প্রতি ৪টি ইট ভাটার মালিককে ৮ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অবৈধ ইট ভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত।