॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়ে জাতীয় সংসদ্য সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে পার্বত্য অঞ্চলে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে। এটা আমাদের সকলের বুঝতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে আবার কেন রক্তের হলি শুরু হলো? কেন এখানে আবার যৌথ বাহিনীর অভিযান দিতে হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চল এখন আতঙ্কেও মধ্যে রয়েছে। স্বাধীন দেশের নাগরিক কেন আতঙ্কে থাকবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (২০ মে) সকালে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে প্রাঙ্গণে আয়োজিত ছাত্র জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৩-৪ মে পার্বত্য অঞ্চলের নানিয়ারচরে শক্তিমান চাকমার হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এইসব ঘটনা অত্যান্ত দুঃখজনক। এটি কারোই কাম্য নয়। এইসব হত্যাকান্ডের পক্ষে আমরা নয়। শক্তিমান চাকমার হত্যার পরের দিন আরো ৫জন অত্যান্ত মর্মমান্তিভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এইসব হত্যাকান্ডেরও নিন্দা জানাচ্ছি।

পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের বিরোধীতা করে তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি আমরা চাই না। সরকার সন্ত্রাসীদের, অস্ত্রবাজদের, চাঁদাবাজদের ধরবেন ঠিক আছে। আমরা বার বার বলে আসছি, অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান হোক। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হোক, এইসবের বিরুদ্ধে আমরা নয়। অভিযান হোক কিন্তু অভিযানের নামে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি না হয়। কোন রকম তাদরে ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

তিনি সকলকে সম্প্রীতির আহব্বান জানিয়ে বলেন, আসুন পাহাড়ী-বাঙালী আমরা সবাই মিলেমিশে সামনের দিকে অগ্রসর হই। আমরা হানাহানি করলে উন্নয়ন হবে না। মানুষ হিসেবে বেচে থাকার বাস্তবতা থাকবে না। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা এক অপরের সাথে মিলেমিশে থাকতে চাই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি জুয়েল চাকমার সভাপতিতে ছাত্র জনসমাবেশে ছাত্র জনসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দীন মাহিম, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক নজরুল কবির, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পাদীপ্ত বসু, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি মনিরা ত্রিপুরা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ছাত্র জনসমাবেশের আগে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এবং বেলুন উড়িয়ে ঊষাতন তালুকদার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।