স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: পার্বত্য চুক্তিতে বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক ধারাগুলো সংশোধন করে চুক্তির পূনঃমূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। মঙ্গলবার (০১ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট এর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের কাছে এ দাবি জানান নাগরিক পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

নাগরিক পরিষদের নেতৃবৃন্দরা বলেন, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে তৎকালীন শান্তিবাহিনী রক্তের হোলি খেলায় মেতে ছিল। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি হলে অনাকাঙ্খিত এসব ঘটনার অবসান ঘটে।

২রা ডিসেম্বর চুক্তির ২৩বছর পূর্তি হবে। একের পর এক চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে পাহাড় জুড়ে। সরকারের দাবি চুক্তির অধিকাংশ ধারাই এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট কিছু ধারা বাস্তবায়নাধীন।

কিন্তু চুক্তির এত বছর পার হলেও পাহাড়ে শান্তি আসেনি। পার্বত্য অঞ্চলে একে একে কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (এমএন লারমা), ইউপিডিএফ (প্রসিত) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্বত্য অঞ্চলে চদাঁবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। তাদের কাছে পাহাড়ি বাঙালিরা জিম্মি। এইসব সন্ত্রাসীদের উৎখাত না করলে পাহাড়ে শান্তি আসবে না বলে তারা মত ব্যক্ত করেন।

তারা জানান, শান্তিচুক্তির ৩৪ধারা অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদকে ৩০টি বিভাগ, রাঙামাটি জেলা পরিষদকে ৩০টি বিভাগ এবং বান্দরবান জেলা পরিষদকে ২৮টি বিভাগ প্রদান করা হয়েছে। চুক্তির ‘ঘ’ খন্ডের ১ধারা অনুযায়ী ভারত প্রত্যাগত ১২হাজার ২২৩টি উপজাদি শরনার্থী পরিবারকে ইতিমধ্যে প্রত্যাবাসান করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৫০হাজার টাকা এবং চাকরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত শরনার্থীদের জন্য ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়েছে। তারপরও পাহাড়ে শান্তি আসছে না।

বক্তারা আরও জানান, চুক্তির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট ১২টি আইনসহ মোট ৩৮টি আইন সংশোধন করা প্রয়োজন শান্তিচুক্তির আওতায় গঠিত ভূমি কমিশন আইনের সর্বশেষ ভূমি কমিশন আইনের সর্বশেষ সংশোধনীকে বিশেষজ্ঞরা রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা, কর্তৃত্ব এবং এখতিয়ার বিরোধী বলে মন্তব্য করছেন। তাই অবিলম্বে এইসব বিতর্কিত ধারাগুলো অবিলম্বে পরিবর্তন করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

এসময় নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আলমগীর কবির, নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মো. শাব্বির আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকী, সিনিয়র সহ- সভাপতি মোঃ নাদিরুজ্জামান, সহ-সভাপতি কাজী মোঃ জালোয়া, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নজরুল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ- সভাপতি মোঃ হাবিব আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজিম আল হাসান, প্রচার সম্পাদক তাজুল ইসলাম তাজ, ছাত্রনেতা মামুনুর রশীদ মামুন প্রমুখ।