॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

স্বাধীন বাংলার অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে জুম্মল্যান্ড করার নীল নকশা প্রণয়নের দায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা হওয়া উচিত বলে মনে করেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মজিবুর রহমান।

কাজী মজিব বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন চলবে না। আর সন্তু লারমা এ এলাকার ভোটার নন। তাই তিনি এ দেশের নাগরিকও নন। তৎকালীন সরকার পার্বত্য চুক্তি করেছিলো পাহাড়ে শান্তির জন্য। কিন্তু চুক্তির অনুসারে পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের অধিকার সমান ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তি কোন পবিত্র কোরআন শরীফ নয় যে তাকে বদলানো যাবে না। শান্তির জন্য প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করাও যায়। তবে আমরা চুক্তি বাতিলের কথাও বলছি না। সংশোধনের পক্ষে কথা বলছি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতির সাথে চুক্তির সময় তৎকালীন তথা বর্তমান ক্ষমতাসীন আ’লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, আতাউর রহমান কাউসার, বান্দরবানের এমপি বীর বাহাদূর, রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদার এবং খাগড়াছড়ির এমটি কল্পরঞ্জন চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দু:খের বিষয় সেসময় নিপীড়ত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধিকে সেসময় রাখা হয়নি। যে কারণে চুক্তির এত বছর পার হওয়ার পরও পাহাড়ে শান্তি আসছে না। পাহাড়ে শান্তির দেখা পাওয়া যাচ্ছে না।

নাগরিক পরিষদের নেতা মজিব আরও জানান, পার্বত্য শান্তি চুক্তির সুফল হিসেবে একটি গোষ্টি ফায়দা লুঠছে। তারা হাজার জমি নিজেদের দখলে রেখে দিয়েছে। আজকে রাজা প্রজাদের কাছ থেকে কর নিয়ে খাচ্ছে। পাহাড়ের ভূমি রেজিস্ট্রি বন্ধ। পাহাড়ের একটি গোষ্ঠি ছাড়া ৯০ভাগ মানুষ ভূমিহীন অবস্থায় বসবাস করছে। সরকারের উচিত হবে- দ্রুত সময়ের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে কি পরিমাণ জায়গা রয়েছে তা জরিপ করা। সরকারি প্রতিষ্ঠান কত একর নিয়েছে, ফরেষ্ট বিভাগ কত একর নিয়েছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন কত একর রয়েছে সেগুলো বের করা। এরপর খাস জায়গা বের করে ভূমিহীনদের মাঝে ৫একর করে জায়গা প্রদান করা।

তিনি বলেন, শুধু পাহাড়ে নয়, বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই। যদি আদিবাসী বলে কোন সম্প্রদায় থাকে তাহলে সেটা হলো- বাঙ্গালী জনগোষ্ঠি। কারণ বাঙ্গালী জনগোষ্ঠি এ অঞ্চল তথা বাংলাদেশে পাঁচহাজার বছরেরও অধিক সময় বছর ধরে বসবাস করে আসছে। এটা আমার কথা নয়, এটা রাষ্ট্রপতির কথা, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা, এটা স্পিকারের কথা।

কাজী মজিবুর রহমান আরও বলেন, উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি কোটা যায় বলি না কেন, বিভিন্ন চাকরি, স্কুল-কলেজে সুবিধা নেওয়ার জন্য সরকার কর্তৃক ১০ভাগ কোটা রাখা হয়। একটি গোষ্ঠিকে দেখি- তারা শুধু এ কোটা ব্যবহার করে ফায়দা লুঠছে। পাহাড়ের অনেক গোষ্ঠি আছে তারা সেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাহাড়ে যারা বসবাস করছে তারা সকলে পাহাড়ি। সুতরাং যেসব বাঙ্গালী পাহাড়ে বসবাস করছে তারও পাহাড়ি। সরকার কোটার পরিমাণ ২০ভাগ করুক। পাহাড়ের সকল বাসিন্দা সমান ভাবে সেইসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের এ নেতা জানান , ইতিহাসে মীর জাফরদের কোন ঠাঁই নেই। মীর জাফররা যুগে যুগে ছিলো, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌছবো। কেউ ট্রেন মিস করলে এটা তাদের ব্যর্থতা।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকালে রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্টিজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এসব কখা বলেন।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সভাপতি সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মজিবুর রহমান, অধ্যক্ষ আবু তাহের, মণিরুজ্জামান মণির, শেখ আহম্মেদ রাজু, কাজী নাছিরুল আলম, আব্দুর হামিন রানা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাভডভোকেট আলম খান, মো. আব্দুল মজিদ, এসএম মাসুম রানাসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।