॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেকের কটেজগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বিভিন্ন সময় নিয়ে কটেজগুলোর পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

যেসব কটেজগুলোতে পানিসরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে সেগুলো হলো- ১৭ জানুয়ারি মনটানা রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট ও রয়েল সাজেক, ২৮ ফেব্রুয়ারি মেঘালয় রিসোর্টে ও হিমালয় রিসোর্ট, ২ মার্চ গরবা রিসোর্টে, মেঘ কাব্য রিসোর্ট, সাজেক মেঘ বিলাস ও আল মদিনা রেস্টুরেন্ট, ৩ মার্চ বিসমিল্লাহ রেস্টুরেন্ট ও মহসিন রেস্টুরেন্ট এবং মঙ্গলবার (৫ মার্চ) মেঘ মাচাং রিসোর্ট, মেঘ পুঞ্জি রিসোর্ট, মৈত্রী রিসোর্ট, ড্রীম সাজেক রিসোর্ট, দার্জিলিং রিসোর্ট ও এভারেস্ট রিসোর্টসহ মোট ১৭টি রিসোর্ট।

এ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কটেজগুলোতে চান্দের গাড়ি (জিপ গাড়ি) করে পানি সরবরাহ করা হয়। তাই পানি সরবরাহ করার কারণে একদিকে যেমন পানির ব্যবসা জমে উঠেছে তেমনি গাড়িগুলো পানি সরবরাহ করে আয় করছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকায় যে কারণে পানি কেন্দ্রীক একটি ব্যবসা জমে উঠেছে। কিন্তু সন্ত্রাসী কর্তৃক পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় পর্যটকরা পড়েছে চরম বিপাকে। কটেজগুলো বন্ধ হওয়ার পথে। এমন সমস্যার বিপাকে পড়ে রিসোর্ট মালিকরা পর্যটকদের অগ্রিম বুর্কি বাতিল করে দিয়েছে।

তবে সন্ত্রাসী কর্তৃক পানি সরবরাহ বন্ধের ব্যাপারে কটেজ মালিকরা সত্যতা শিকার করেছে এবং তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য ছিলো একটাই; কটেজগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে পর্যটকদের আসার পথ রুদ্ধ করা ।

স্থানীয় বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সাজেকের এরিয়া কমান্ডার প্রমিজ চাকমা ওরফে প্রমেস চাকমার নির্দেশেই কটেজগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সু-পর্ণ ত্রিপুরা বলেন, কোন কারণ ছাড়াই রিসোর্ট গুলোতে সন্তু গ্রুপের জেএসএস’র স্থানীয় নেতার নির্দেশে কটেজগুলোতে পানি সরাবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান রিসোর্ট সমিতির এ নেতা।

জেএসএস বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বড় ঋষি চাকমার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছি।

উল্লেখ্য সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ১৮শ’ ফুট উচ্চতায় গড়ে ওঠা এই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পানি সরবরাহ করা হয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ঝরণা এবং ছড়া থেকে।