মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: শিশুদের শারীরিক এবং মানুষিক ভাবে শক্তিশালী গড়ে তুলতে হলে খেলা-ধূলার কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, বাড়ছে দালান কোটার সংখ্যা, সংকুচিত হচ্ছে খেলার মাঠ। শিশুরা দিনদিন ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে।

সুষ্ঠু পরিবেশে শিশুদের খেলা-ধূলার জন্য রাঙামাটিবাসীর দীর্ঘ বছরের দাবি ছিলো- দেশের এই বৃহৎ জেলায় একটি শিশু পার্ক গড়ে তোলা। এই নিয়ে নানা সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। পেপার-পত্রিকায়ও এ বিষয়ে লেখালেখি হয়েছে।

তৎকালীন সরকার ১৯৮৩সালে রাঙামাটি শহরের বুকে রিজার্ভবাজার এলাকায় শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক স্থাপন করে দেয়। কিন্তু কোন অসংগত কারণে পার্কটি আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ বছর ধরে পার্কটি ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছিলো। মাদকসেবীদের আস্তানা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত পায় পার্কটি।

স্থানীয়রা পুনরায় পার্কটি নতুন ভাবে শুরু করার দাবি জানালে বর্তমান সরকার জেলা প্রশাসনের অধীনে ২০১৯সালে পার্কটি নতুন রূপ প্রদান করে। আর অতীতের জঞ্জাল স্থানটিতে বর্তমানে সন্ধ্যা বাতি জ্বলে উঠার সাথে সাথে শিশুরা আনন্দের হইহুল্লোড়ে মেতে উঠে।

পার্কটিতে শিশুদের বিনোদনের জন্য বর্তমানে জেলা প্রশাসন কয়েক ধরণের রাইড স্থাপন করেছেন। পার্কে রয়েছে, শ্বেথ পাথরের তৈরি জেব্রা, জিরাফ, পানির ফোয়ারা, বক। ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে পার্কের পুরো স্থান। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে রংবেরংয়ের লাইটের আলোর ঝলকানিতে পার্কটি নতুন রূপ ধারণ করে। যা শিশুদের আরও বেশি উৎফুল্ল করে। শিশুদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও পার্কের মনমুগ্ধকর সৌন্দর্যে মেতে উঠে। স্থানীয়দের পাশাপাশি পার্কটি এখন পর্যটকদেরও বেশ নজর কাড়ছে। জেলার বাইরে থেকে যেকোন পর্যটক আসলে এ পার্কে একবার হলেও ঢুঁ- মেরে যাচ্ছেন।

শিশু পার্কে আসা বেসরকারি চাকরিজীবি দীপ্ত হান্নান বলেন, রাঙামাটি শহরে জনবসতি বাড়ছে। শিশুদের খেলার জায়গা (মাঠ) সংকুচিত হচ্ছে। শিশুদের বেড়ে উঠতে হলে খেলা-ধূলার কোন বিকল্প নেই। তাই শিশু পার্কটি শিশুদের মানুুষিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দীপ্ত হান্নান এর স্ত্রী সরকারি চাকরিজীবি নাজমা বেগম বলেন, এখানে আসলে মনটা ভাল হয়ে যায়। বাচ্চারাও অনেক খুশি হয়।

পার্কে বেড়াতে আসা শিশু নাইমা আক্তার বলেন, আব্বু-আম্মুকে নিয়ে বেড়াতে এসেছি। এখানে বেড়াতে আসলে অনেক খুশি লাগে।

রাঙামাটি পার্কের টিকেট কাউন্টার এর দায়িত্বে থাকা শুভ চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলে শত শত শিশু ও তাদের মা-বাবারা এ পার্কে এসে সময় কাটায়। প্রতিদিন ৪০০-৪৫০জন মানুষ টিকিট কেটে বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে আসেন। পার্কটি প্রতিদিন বিকেল চারটায় খোলা হয় আর রাত আটটায় বন্ধ করে দেয়া হয়।

রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটিতে তৎকালীন সরকার ১৯৮৩সালের দিকে শহরের মূল স্থানে সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে একটি শিশু পার্ক গড়ে দেয়। কিন্তু পার্কটি কোন অসংগত কারণে আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা পার্কটি নতুন করে সচল করতে আন্দোলন শুরু করলে অবশেষে সরকার রাঙামাটিবাসীর দাবি মিটেয়ে দেয়। ২০১৯সালের দিকে পার্কটি নতুন রূপ ধারণ করে। পার্কটি শহরের শিশুদের জন্য প্রধান বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিতি পেয়েছে বলে জেলার সিনিয়র এ সাংবাদিক দাবি করেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নিদের্শে পার্কটি নতুন করে চালু করা হয়েছে। পার্কটিতে নতুন নতুন রাইট স্থাপন করা হয়েছে। পার্কটি প্রতিদিন শিশুদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকে। দেখতে খুব ভাল লাগে। পার্কটি ভবিষ্যতে আর বেশি সৌন্দর্যমন্ডিত করা হবে বলে ডিসি যোগ করেন।