॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি বহু বৈচিত্র রূপের কারণে তার আলাদা স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরিচতি। এখানকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠির প্রধান পেশা জুম চাষ হলেও যুগের বিবর্তনে তা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পাহাড়ি চাষীরা আয়ের পরিধি বাড়াতে পাহাড়ে নানামূখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন। আর তেমনি একটি ফসলের নাম বারী-১ জাতের সবুজ মাল্টা।

ফলটার রং সবুজ হলেও খেতে বেশ সুস্বাদু ফলটি। তাই স্থানীয় বাজারে দিন দিন এর চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বল্প খরচ, অধিক লাভ এবং অল্প পরিশ্রমে এ ফলের চাষ করা যাচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ফলটি। তাই অধিক লাভের আশায় স্থানীয় কৃষকরা পাহাড়ের বুকে রোপন করছে বারি-১ জাতের সবুজ মাল্টা।

আর তাই স্থানীয় কৃষককরা নিজের অর্থনৈতিক চাহিদার উন্নতি ঘটাতে সবুজ মাল্টায় এখন স্বপ্ন বুনা শুরু করেছেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সবুজ রংয়ের বারি মাল্টা -১ চাষাবাদ করে সফলতার মুখ দেখে ফেলেছেন জেলার অনেক চাষী।

সবুজ রঙের মাল্টা বারি-১ চাষ করে এমনি এক সফল চাষী হচ্ছেন রাঙামাটি সদরের সাপছড়ি ইউনিয়নের শুক্কুরছড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হেম কুমার চাকমা। সরেজমিনে গেলে কথা হয় তার সাথে। তুলে ধরেন নানা সফলতার কথা।

হেম জানান- নিজের এক একর জমিতে আগে থেকে জুম চাষ করতেন। লাভ-লোকসান মিলে কোন রকম দিনযাপন করতেন। কিন্তু মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে জমিতে লাভজনক কি করা যায়।

এ চাষী আরও জানান, সম্ভবত ২০১৪ সালের শুরুর দিকে একদিন স্থানীয় হর্টিকালচার’র কর্মকর্তারা ‘মাল্টা’ নামের একটি ফলের চাষ করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।

তাদের পরামর্শ এবং আশ্বাসের ভিত্তিতে জুম চাষ বন্ধ করে কৃষি বিভাগের উৎপাদিত মাল্টা বারি-১ নামের ২০০চারা গাছ এনে নিজের এক একর জমিতে চাষ করি এবং নিজের স্ত্রীকে নিয়ে চারাগুলো পরিচর্চা করতে থাকি।

অবিশ্বাস হলো সত্যি, বেশিদিন অপক্ষো করতে হয়নি। মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে সবুজ মাল্টায় ভরে গেলো পুরো বাগান। সবুজ পাহাড়ের সবুজ মাল্টায় স্বপ্নগুলো যেন সবুজ হয়ে গেলো, এভাবেই অভিব্যক্তিই ব্যক্ত করলেন হেম।

আর তাই ২০১৮ সাল থেকে নতুন স্বপ্ন গড়ে তুলছেন এ কৃষক। তিনি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তার পাশ্ববর্তী কৃষকদের লাভজনক সবুজ মাল্টার চাষ করার জন্য।

এবার তার দেখাদেখি স্থানীয় হর্টিকালচার সেন্টারের সহযোগিতায় তার পাশ্ববর্তী এক একর জায়গায় সবুজ মাল্টার চাষ করেছেন পূর্ণ চন্দ্র চাকমা। তিনি জানান, জুম চাষ থেকে মাল্টা চাষ অনেক লাভবান। তাই মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে জমির পরিমাণ আরও কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে কাজ করছি।

রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানানো হয়- এবছর জেলার ৫৫হেক্টর জমিতে বারি- ১ জাতের মাল্টা চাষ করা হয়েছে। পাহাড়ির মাটি উর্বরতার কারণে মাল্টা জাতের ফলনের উৎপাদন বেশ ভাল হচ্ছে বলে জানানো হয়। মাল্টা চাষের জন্য পাহাড়ের মাটি উপযোগী এর উৎপাদন দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, এক সময় পাহাড়ীরা জুম চাষ করলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এখন লাভজনক সবুজ মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছে চাষীরা।

তিনি বলেন- বর্তমানে হেক্টর প্রতি ১২ মেট্রিকটন সবুজ মাল্টা উৎপাদিত হচ্ছে। তাই স্থানীয় বাজার চাহিদা মিটিয়ে এখন সবুজ মাল্টা জেলার বাইরে রপ্তানী শুরু হয়েছে। আর কৃষকরা তাতে কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে। বর্তমানে পাহাড়ের নতুন অর্থনৈতিক ফসল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে এ মাল্টা বলে যোগ করেন কৃষি কর্মকর্তা।