স্টাফ রিপোর্টার । হিল রিপোর্ট

রাঙামাটি: বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলোর সাজেক ইউনিয়নে এলাকাবাসীর উদ্যোগে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে হোমকোয়ান্টোইন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসব ঘর তৈরি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়- পাহাড়ী গ্রামে এলাকার যুব সমাজের উদ্যোগে ২৫ টি হোমকোয়ারাইন্টিন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। যে সমস্ত এলাকায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে- ভাইবাছড়া, হাজাছড়া, রামছড়া, নাঙ্গলমারা, উলুছড়া, নন্দরাম, ডিপুপাড়া, শুকনোছড়া, করল্ল্যাছড়ি এগুচ্ছাছড়ি,ভাইবোনছড়া গ্রামে। ঢাকা চট্রগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ছাত্র ও গার্মেন্ট কর্মীদের ১৪ দিন হোমকোয়ারাইন্টিনের ব্যাবস্থা করা হবে এসব ঘরে, প্রতিটি ঘরে ৪ জন করে ২৫ টি ঘরে এক শত লোক থাকতে পারবে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা তাদের স্বজনদের হোমকোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এলাকাবাসীরা বন থেকে কাঠ, বাশঁ সংগ্রহ করে পাহাড়ের পাদদেশে এসব ঘর তৈরি করছে। তারা এই ঘরে ১৪দিন থাকবেন এবং তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

সম্প্রতি সাজেকে হাম রোগের হানায় এ পর্যন্ত ৯টি শিশু মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছিলো প্রায় ১৫০জনের মতো শিশু। সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং উপজেলা মেডিকেল টিম যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়। তবে হামের হানা বন্ধ হয়েছে বলে আপাতত ধারণা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা বলেন, স্থানীয়রা ব্যক্তি উদ্যোগে এসব হোমকোয়ারেন্টাইন ঘর তৈরি করতে পারে। তবে কয়টি ঘর তৈরি করেছে তারা তা আমার জানা নেই। তবে উদ্যোগটিকে আমি ভাল বলবো।

এদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলায় বাইরের থেকে অনেক গার্মেন্ডন্টস শ্রমিকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। সরকারি সংস্থার একটি সূত্র মতে- গত কয়েকদিনে বাঘাইছড়িতে প্রায় এক হাজার মতো মানুষ প্রবেশ করেছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবিব জিতু বলেন, বাইরের থেকে যারা এই উপজেলায় প্রবেশ করেছে বিভিন্ন চেক পোষ্টের মাধ্যম হতে প্রাপ্ত তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তাদের হোমকোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার স্ব-স্ব জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিং টিমও এ বিষয় নিয়ে কাজ করছের বলে ইউএনও যোগ করেন।

প্রসঙ্গত: বাংলাদেশের মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে উপজেলার নাম বাঘাইছড়ি। আর এর মধ্যে সবচেয়ে দূর্গম ইউনিয়নের নাম সাজেক। এখানে কিছু সমতল জায়গায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলেও প্রকৃতগত ভাবে পুরো এলাকা বেশ দূর্গম বলা চলে। ৬০৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সাজেক ইউনিয়নে ৫২হাজারের মতো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির বসবাস। দূর্গমতার কারণে চাইলে যথা সময়ে এখনো কোন সাহায্য-সহযোগিতা পৌছানো অনেকটা অসম্ভব। তাই যেকোন সহযোগিতা পৌছাতে চাইলে এখানে ব্যবহার করতে হয় হেলিকপ্টার।