॥ বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ॥

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের লুংটিয়ান গ্রামে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খেতি রাণী ত্রিপুরা (১৩) নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪মার্চ) সকালে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, শিয়ালদহ মৌজার স্থানীয় হেডম্যান জৈপুতাং ত্রিপুরা।

হেডম্যান জৈপুতাং ত্রিপুরা বলেন, শিশুটি গত কয়েকদিন আগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো। পরে সোমবার দিনগত গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। বর্তমানে মহেন ত্রিপুরা ( ৮) নামের আরেক শিশু মুমর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে রোববার (২২মার্চ) দিনগত গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গেরাটি ত্রিপুরা (০৯) নামের এক শিশু মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সাজেক ইউনিয়নে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮এবং আক্রান্তের সংখ্যা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯। সম্প্রতি গত কয়েকদিন পরিস্থিতির উন্নতি হলেও হঠাৎ করে রোববার থেকে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদের দু’টি মেডিকেল টিম সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সেবা কোনদিকে কম রাখছি না।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবিব জিতু জানান, জেলা প্রশাসকের করা নির্দেশ রয়েছে যে কোন মূল্যে সাজেকের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে। যে কোন প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে।

ইউএনও আহসান হাবিব জিতু আরও জানান, জেলা প্রশাসক আক্রান্ত শিশুদের উন্নতমানের পুষ্টি জাতীয় খাবার পরিবেশনের জন্য ৫০হাজার টাকা আর্থিক সাহার্য্য প্রদান করেছেন। সেই টাকায় আমরা আক্রান্ত শিশুদের উন্নতমানের ভিটামিনযুক্ত খাবার পরিবেশন করে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গ: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী শিয়ালদহ এলাকার তিনটি গ্রামে গত ১৯ ও ২০মার্চ ৬জন শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে মারা গেছেন এবং এসময় আক্রান্ত ছিলেন আরও ১০৭জন। আর রোগটি মোকাবেলায় ২০মার্চ সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিজিবির সমন্বয়ে দু’টি মেডিকেল টিমকে হেলিকপ্টারযোগে ওই এলাকায় প্রেরণ করা করা হয়েছিলো।