॥ আবু নাছের, বাঘাইছড়ি ॥

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের হামে আক্রান্ত ৫শিশুর জীবন বাঁচাতে পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী। বুধবার (২৫মার্চ) বিকেলে আক্রান্ত এসব শিশুদের উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উদ্ধারকৃত এসব শিশুরা হলো- প্রতিল ত্রিপুরা (০৫), রোকেন্দ্র ত্রিপুরা (০৬), রোকেন্দ্র ত্রিপুরা (০৮), নহেন্দ্র ত্রিপুরা (১০) এবং দিপায়ন ত্রিপুরা (১৩)।

এদিকে গত দু’মাস আগে সাজেক ইউনিয়নের শিয়ালদহ ও তুইচুই মৌজায় ভারত সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম অরুনপাড়া, লংথিয়ান ত্রিপুরা পাড়া এবং হাউসপাড়ায় হাম হানা দেয়। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ ৮জন শিশু নিহত হয় এবং আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ১৩০জন।

রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের শিয়ালদহ ও তুইচুই মৌজায় ভারত সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম অরুনপাড়া, লংথিয়ান ত্রিপুরা পাড়া এবং হাউসপাড়ায় হাম রোগের প্রাদুভার্ব ঘটে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১ শিশু মারা যায়। এরপর গত ২মাসের মধ্যে সর্বশেষ ৮জন নিহত এবং ১৩০জন আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং ৫৪বিজিবি’র যৌথ সমন্বয়ে ৫টি মেডিকেল টিম আক্রান্ত শিশুদের সেবা প্রদানে কাজ করছে।

এর আগে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক আক্রান্ত শিশুদের সহায়তায় খাগড়াছড়ি রিজিয়নকে একটি চিঠি প্রেরণ করে। এরপর রিজিয়ন সেই চিঠির অনুরোধে মঙ্গলবার (২৪মার্চ) তাদের একটি মেডিকেল টিমকে হেলিকপ্টারযোগে সাজেকের আক্রান্ত এলাকায় পাঠায়। বুধবার (২৫মার্চ) বিকেলে সেনাবাহিনীর মেডিকেলের টিমের সদস্যরা ওই এলাকায় খুঁেজ হাম রোগে আক্রান্ত মুমর্ষ অবস্থায় ৫শিশুকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা দিতে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা.বিপাশ খীসা দু:খের সাথে বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো কুসংস্কারে বিশ্বাস। এরপর আমাদের জন্য বড় বাঁধা হলো দূর্গমতা। সবমিলে নিদারুণ সমস্যা। যে কারণে এ এলাকার শিশুদের হাম রোগের টিকার আওতায় আনা সহজ হয়ে উঠেনি। বর্তমানে সেনা, বিজিবি, জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথ উগ্যোগে এ সমস্যা থেকে উত্তোরণে কাজ করছে।