॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের শিয়ালদহ মৌজায় এলাকায় গত এক সপ্তাহে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১জন প্রতিবন্ধী রয়েছে।

নিহত শিশুরা হলেন, রোহিনা ত্রিপুরা (৮), সাগরিকা ত্রিপুরা(১১), কোহেন ত্রিপুরা(৩), বিশান ত্রিপুরা(২), ক্লাই ত্রিপুরা(২), মনে ত্রিপুরা(১.৫)।

এছাড়াও ওই মৌজার তিন গ্রামে আরও ১০৭ শিশু আক্রান্ত রয়েছে বলে স্থানীয় হেডম্যান জৈপুতাং ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অবশ্য বৃহস্পতিবার (১৯মার্চ) রাতে ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন, সিভিল সার্জন ডা: বিপাস খীসা।

স্থানীয় হেডম্যান জৈপুতাং ত্রিপুরা বলেন, তার অধীনস্ত লুং তিয়ান পাড়াতে ৮৫ পরিবার, কমলাপুরে আছে ৩০-৪০ পরিবার, অরুণ পাড়াতে আছে ৭০-৭৫ পরিবার। প্রত্যেক পরিবারে কমপক্ষে ৫জন করে সদস্য রয়েছে।

তিনি জানান, আনুমানিক ২০ দিন আগে তার মৌজার তিনটি পাড়ায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। লুংতিয়ান পাড়াতে ৮৮জন, কমলাপুর চাকমা পাড়াতে আছে ১২জন এবং অরুণণ পাড়াতে আছে ৭জন। মোট ১০৭জন রোগী এখনো আক্রান্ত রয়েছে। আক্রান্তরা সকলের শিশু।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা বলেন, সাজেক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম অরুনপাড়া, নিউথাং পাড়া এবং হাইচপাড়ায় গত কয়েকদিনে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই ৬ জন শিশু মারা গেছেন বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছি বলে চেয়ারম্যান জানান।

এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলে এগিয়ে আসলে এই মাহামারী থেকে অত্র এলাকার শিশুদেও বাঁচানো সম্ভব বলে যোগ করেন চেয়ারম্যান।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবিব জিতু জানান, গত কয়েকদিন ধরে সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম এবং সীমান্তবর্তী শিয়ালদহ এলাকার তিনটি গ্রামের শিশুদের হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনেছিলাম।

কিন্তু দূর্গমতার কারণে ওইসব এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তারপরও আমরা বিজিবির দুইটি এবং মেডিকেলের একটি টিম পাঠিয়েছি। তারা হেলিকপ্টাওে গিয়ে ওই এলাকায় পৌছে কাজ শুরু করে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সময় লাগবে। তবে মিশন সফল হবে বলে আশাকরি বলে যোগ করেন ইউএনও।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে আক্রান্ত এলাকায় একটি মেডিকেল টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তবে সেখানে কোনো এমবিবিএস পাস ডাক্তার নেই। যারা কাজ করছে তারা সকলে প্যারামেডিক্স পাস ডাক্তার।