স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: করোনার মহামারী রোধে রাঙামাটির বনবিহারে সীমিত পরিসরে কঠিন চিবর দানোৎসব পালন করা হয়েছে। ধর্মীয় এই অনুষ্ঠানটি প্রতিবছর দু’দিনব্যাপী করা হলেও করোনার কারণে শুক্রবার (২৭নভেম্বর) প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে একদিনে শেষ করা হয়।

সকাল থেকে বুদ্ধমূর্তি দান, বস্ত্রলংকার দান এবং বিকেলে দেশ, জাতি এবং করোনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রার্থনার সমাপ্তি করেন, রাজবন বিহারের ধর্মীয় গুরু (অধ্যক্ষ) প্রজ্ঞালংকার মহাথেরো।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কাটাছড়ি বনবিহারের ধর্মীয় গুরু (অধ্যক্ষ) ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থিবির। বনবিহার উপাসক-উপসিকা কমিটির সবাপতি গৌতম দেওয়ানের সভাপতিত্বে এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, বিএনপির সাবেক উপমন্ত্রী মণিস্বপন দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমাসহ ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকারা ।

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় গেরুয়া কাপড়কে বলা হয় চীবর। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সূতা কেটে, সূতা রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরী করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয় বলে এর নাম কঠিন চীবর দান বলা হয়। পার্বত্য এলাকার বৌদ্ধরা এ উৎসব পালিত হয় প্রাচীন নিয়মে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এই অনুষ্ঠানটি এইবার সংক্ষিপ্ত করায় পূণ্যার্থীর ঢল ছিলো না। এছাড়া দেশ-বিদেশ থেকেপূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেনি এবছর।

বনবিহার এর দায়ক-দায়িকা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, করোনার কারণে সরকারি নির্দেশনা মেনে এই বছর দু’দিনের অনুষ্ঠান একদিনে শেষ করেছি। জেলার বাইরে দর্শনার্থীদের আসতে দেওয়া হয়নি। যারা অনুষ্ঠানে এসেছে তাদের অবশ্যই মাস্ক পড়তে বাধ্য করা হয়েছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত: বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে, দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর পূর্বে গৌতম বুদ্ধের শিষ্য বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর তৈরীর প্রচলন করেছিলেন। প্রতি বছর আষাড়ী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিনমাস বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর দান করতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সাল থেকে বুদ্ধের শিষ্য বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে রাঙামাটি রাজবন বিহারে ৪৫ বছর ধরে কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মতে, জগতে যত প্রকার দান রয়েছে তার মধ্যে এ চীবর দানই হচ্ছে সর্বোত্তম দান।