স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

বাঘাইছড়ি: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির হামে আক্রান্ত ৫শিশু দীর্ঘ ১৮দিন চিকিৎসা শেষে অবশেষে সুস্থ্য হয়ে মা-বাবার বুকে ফিরে গেছেন। শনিবার (১১এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপতাল থেকে তাদের ছাড় পত্র দেওয়া হয়।

সুস্থ হওয়া শিশুরা হলো- প্রতিল ত্রিপুরা (০৪), রোকেন্দ্র ত্রিপুরা (০৬), রাজেন্দ্র ত্রিপুরা (০৮), নহেন্দ্র ত্রিপুরা (১০) এবং দীপায়ন ত্রিপুরা (১৩)। এরা সকলে একই পরিবারের সদস্য।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে শিশুদের বাবা নীলু ভূষণ ত্রিপুরা বলেন, সেনাবাহিনী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিলে আমাদের পক্ষে শিশুদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো না। আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই অবদান সারা জীবন মনে রাখবো। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করছি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির এবং সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসকদের, যাদের অদম্য প্রচেষ্টায় আমার সন্তানেরা আজ নতুন জীবন ফিরে পেল।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে মাইক্রোবাস করে চট্টগ্রাম থেকে নিজ গ্রাম সাজেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ২৪পদাধিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান বলেন, আমরা সব সময় পাহাড়িদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। এর আগেও আমরা এরকম কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।

এদিকে শুরু থেকে সাজেকে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং উপজেলা মেডিকেল টিম যৌথভাবে কাজ করে আসছে। এসময় ওই ইউনিয়নের শিয়ালদহ গ্রামের একই পরিবারের ৫শিশু হামে গুরুতর আক্রান্ত হলে ২৪পদাধিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে চট্টগ্রামের সিএমএস এ নিয়ে আসে। এরপর আরও উন্নত চিকিৎসা দিতে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, বিগত দুই মাস ধরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামে হামে আক্রান্ত হয় শতাধিকেরও বেশি শিশু। কিন্তু এসব শিশুদের মা-বাবাদের কুসংস্কার বিশ্বাস করায় আক্রান্ত শিশুদের ঝাড়- ফুঁ দিয়ে সুস্থ্য করে তোলার চেষ্টা চালায়। তবে তাদের এ চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ৮শিশু বিনা চিকিৎসায় মারা যান।