॥ জুরাছড়ি প্রতিনিধি ॥

জুরাছড়ি জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল কেএম ওবায়দুল হক পিএসসি পাহাড়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুষ্কৃতকারী কর্তৃক বৌদ্ধমন্দির ভাঙার প্রসঙ্গে বলেছেন- সেনাবাহিনী মন্দির ভাঙে না, নিজেদের ঘাম, অর্থ দিয়ে সহযোগিতা দিয়ে গড়ে দেয়। সেনাবাহিনী পাহাড়ে শান্তির জন্য, এ অঞ্চলের মানুষের জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের বিপদে এগিয়ে যাচ্ছে।

গত শনিবার (২৭অক্টোবর ) দুপুরে জুরাছড়ি উপজেলার সুবলং বনবিহারে ২৬ তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান উপলক্ষে অতিথি থেকে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন- গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের কুকিছড়া জেত বন বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুরের ঘটনায় সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হচ্ছে। এই রকম ন্যাকারজনক কাজ সেনাবাহিনী কখনো করে না । পাহাড়ের একটি স্বার্থনেষী অরাজকতা সৃষ্টি করতে এটা নিয়ে রাজনীতি করছে বলে জানান।

কমান্ডার জানান- এই ধরণের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সকল মহলকে সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে দুষ্কৃতিকারীরা পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করে পাহাড়ের সাধারণের মানুষের জান-মালের এবং অর্থনৈতিক চরম ক্ষতি করবে যোগ করেন তিনি।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা চেয়ারম্যান উদয়জয় চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবর্তক চাকমা। বিশে^র হিতসুখ মঙ্গল কামনায় বিশেষ পাঠ করেন ধলকুমার চাকমা।

দুই দিনব্যাপী সমাপনি অনুষ্ঠানে ধর্মীয় উদ্ধোধনী সংগীতের মাধ্যেমে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন হিরণ বিজয় চাকমা।এতে বিশাখা প্রবর্তিত সারারাত ব্যাপী কাপড় তৈরী করে কঠিন চীবর দান,কল্পতরু দান,সংঘদান,অষ্টপরিস্কার দান,বুদ্ধমূর্তি দান করা হয়।

ধর্মীয় গুরু রাজ বনবিহার অধ্যক্ষ শিষ্য সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির তার ধর্মীয় দেশনায় বলেন-আত্ব অহংকার থেকে বিরত থাকতে হবে,বনভান্তের উপদেশ পালন করতে পারলে সামাজিক পারিবারিক সুখ সমৃদ্ধি লাভ করা যায়। বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা নীতি অনুস্বরণ করার জন্য দেশনা প্রদান করেন।

ধর্মীয় আলোচনা শেষে জোন কমান্ডার বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতির নিকট আর্থিক অনুদান তুলে দেন।