॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

বিলাইছড়ি জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল শেখ আব্দুল্লাহ বলেছেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দূর্গম পাহাড়ে আলো ছড়াচ্ছে। রোববার (২৮অক্টোবর) দুপুরে বিলাইছড়ি সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চিবর দান অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লে.কর্ণেল আব্দুল্লাহ আরও বলেন- স্বাধীনতার পরবর্তী থেকে সেনাবাহিনী দূর্গম পাহাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে বৈষম্যহীনতার উর্দ্ধে উঠে সকালের স্বার্থে কাজ করছে। যে কোন মানুষের বিপদে সেনাবাহিনী ছুটে যাচ্ছে।

পার্বত্যঞ্চলে সেনাবাহিনীর অবস্থানের পর থেকে শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, চোরা-চালান, দেশের সম্পদ রক্ষা, সন্ত্রাস দমনসহ দেশের স্বার্বভৈামত্ব রক্ষায় অবিরাম কাজ করছে। সেনাবাহিনী আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া করার সুযোগ করে দিচ্ছে। ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পার্বত্যঞ্চলে বেকারত্ব লাঘবে বেকারদের কারিগরী প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। অস্বচ্ছল মানুষকে দিচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

কমান্ডার আব্দুল্লাহ জানান- একটি বিশেষ মহল এ দেশের স্বার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন করতে পাহাড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, গুম সর্বশেষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এ মহলটি এ ধরণের অপকর্ম করে ক্ষান্ত হননি, এসব অপকর্মের দায় সেনাবাহিনীর উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

লে.কর্ণেল আব্দুল্লাহ আরও জানান- এ অঞ্চলের মানুষ ভাল করে জানে পাহাড়ে এ ধরণের হীন কর্মকান্ড কারা করে। সময় হলে জনগণই তার সমুচিত জবাব দিবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কমান্ডার আরও জানান-বর্তমান সরকার সারাদেশের ন্যায় বিলাইছড়ি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে। সরকারের এসব কর্মকান্ড সফল করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী নি:স্বার্থ ভাবে এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।

কমান্ডার বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্য বলেন- বৌদ্ধ ধর্ম একটি অহিংসা ধর্ম। এ ধর্মে কোন হানাহানি নেই। তাই সকলে যদি নিজ নিজ ধর্ম মেনে চলে তাহলে এ সমাজে সকল অরাজতকা বন্ধ হবে বলে যোগ করেন কমান্ডার।
এর আগে জোন কমান্ডার কঠিন চিবর দান অনুষ্ঠানে আগমন করলে বৌদ্ধ ধর্মের উপাসক-উপাসিকরা সন্মান দিয়ে বরণ করে নেন এবং অতীতের আসন প্রদান করেন।

ধর্মীয় এ অনুষ্ঠানে এসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুভ মঙ্গল চাকমা, বিলাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ নাছির উদ্দীনসহ বৌদ্ধ ধর্মের দায়িক-দায়িকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল শেখ আব্দুল্লাহ মন্দির পরিচালনা কমিটির হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।