মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: বৈচিত্রের শহর পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির দূর্গম উপজেলার নাম জুরাছড়ি। জেলা সদরের সাথে এই উপজেলার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো নৌ-পথ। এছাড়া যোগাযোগের কোন বিকল্প পথ নেই।

পুরো উপজেলায় প্রায় ৫০হাজার অধিক মানুষের বসবাস। উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রাখতে গড়ে উঠেছে সড়ক পথ। আর এই সড়ক পথকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে স্কুল। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান।

তবে এইসব কিছুর সমন্বয়ে বর্তমানে সময়ে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলার মূল সড়কটি। সড়কটি প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের মতো লম্বা। উপজেলা রির্সোস সেন্টার থেকে শুরু করে বালুখালী মুখপাড়া পর্যন্ত এবং সুবলংশাখা বনবিহার ও জুরাছড়ি থানা, উপজেলা বাজার হয়ে বহেরাছড়ি,কুসুমছড়ি গ্রাম পর্যন্ত এর বিস্তৃতি।

যোগাযোগের প্রধান সড়কটি থেকে ইটের সলিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাকন্দ ও বড় বড় গর্ত। চুরি হয়েছে সড়কের বেশির ভাগ ইট। আর বর্ষার এমন মৌসুমে সড়কটি পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। যেকোন মূহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা।

সড়কের এমন বেহাল দশার কারণে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। স্থানীয় বসবাসকারী সহস্র মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। দীর্ঘ বছর ধরে সড়কের এমন দশা থাকলেও কোন কর্তৃপক্ষকে সড়কটি মেরামত করতে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। যে কারণে স্থানীয়রা, ব্যবসায়ী মহলরা প্রকাশ করছে চরম ক্ষোভ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা গঠনের শুরুতে তৎকালীন সরকার উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে সড়কটি নির্মাণ করে দেয়। এরপর দীর্ঘ বছর পার হলেও সড়কটি মেরামত করা হয়নি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতশত যানবাহন চলাচল করে। অফিস পাড়া থাকে মুখরিত। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে জমজমাট। সড়কের এমন পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয়রা এসময় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক রিটন চাকমা বলেন, রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বহু বছর আগে নির্মিত রাস্তাটির বর্তমানে কিছু চিহ্ন দেখা মিলে। করার কিছু নেই। পেটের তাগিদে, জীবণের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ী চালাতে হচ্ছে। তাই দূর্ঘটনা এড়াতে অচিরেই রাস্তাগুলো সংস্কার করার জোড় দাবী জানান তিনি।

অটোরিক্সা (সিএনজি) চালক বালুখালী মুখ পাড়ার বাসিন্দা প্রদীপ্ত চাকমা জানান, অচিরেই রাস্তাগুলো সংস্কার করা না গেলে আমাদের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। রাস্তাগুলো জনস্বার্থে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন ।

স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী স্মৃতি বিন্দু চাকমা ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা জন্মলঘ্ন থেকে এই সড়কটি দেখছি। দীর্ঘ বছর আগে তৎকালীন সরকার উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য সড়কটি নির্মাণ করে দিলেও অযত্নে অবহেলায় এবং কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির অভাবে সড়কটির এমন দশা হয়েছে। যদি সড়কটি মেরামত বা সংস্কার করে না দেওয়া হয় তাহলে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়বে। তাই সরকারের উচিত জনসাধারণের কথা ভেবে জনস্বার্থে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করে দেওয়া।

জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, আমি নিজেও ভুক্তভোগী। সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশাকরি ২০২০-২০২১ নতুন অর্থবছরে কাজ শুরু হবে বলে যোগ করেন চেয়ারম্যান।

এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মতিউর রহমান জানান, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বেহালদশার ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজের কর্মপরিধি পাঠানো হয়েছে। নতুন অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারে কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।