॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে ঐক্যফন্ট তথা বিএনপি থেকে মনোনিত রাঙামাটি ২৯৯ নং আসনে এমপি প্রার্থী মণি স্বপন দেওয়ানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে নির্যাতিত রাঙামাটিবাসী নামের একটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সমাবেশে বক্তারা জানান- মণি স্বপন দেওয়ান এখন সুশীল, ভদ্র মানুষ। আর এ ভদ্রতার মুখোশ পড়ে রাঙামাটিবাসীকে ধোঁকা দিয়ে তিনি বিএনপির আমলে পার্বত্য উপ-মন্ত্রী হয়েছেন। বর্তমানে আবারো ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির হয়ে ধানের শিষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

কিন্তু ইতিহাসে তিনি ছিলেন- খুনী বর্বর। তিনি সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি মণি স্বপন দেওয়ান নাম ধারণ করলেও তার প্রকৃত নাম হচ্ছে রাজেশ চাকমা। তৎকালীন পাহাড়ে আতঙ্কের নাম শান্তি বাহিনীর মেজর ছিলেন তিনি। তৎকালীন আমলে তিনি মেজর রাজেশ নামে বেশ পরিচিতি ছিলেন বক্তারা জানান।

বক্তারা আরও জানান- ১৯৮৪ সালের ৩১মে’র কথা আমরা ভুলেনি। সেদিন শান্তি বাহিনীর সেই মেজর রাজেশের নেতৃত্বে রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নে ৪৮৪জন নিরীহ মানুষকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ আহত হয়ে এখনো অনেকে বেঁেচ আছেন করুণ যন্ত্রণা নিয়ে।

দু:খের বিষয় সেই দিনের ঘটনায় তার এখনো কোন বিচার হয়নি। সেই মেজর রাজেশ এখন মণি স্বপন নাম ধারণ করে জনপ্রতিনিধিত্ব করছে।

বক্তারা রাঙামাটিবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন- আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে রাঙামাটির আসনে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির প্রার্থী খুনী মেজর রাজেশ তথা মণি স্বপনকে কেউ ভোট দিবেন না। কারণ তার হাতে হাজার-হাজার বাঙালীর রক্ত লেগে আছে। তিনি বাঙালী নিধনের প্রধান হোতা। তার অত্যাচারের ঘটনা মানুষ এখনো ভুলেনি।

বক্তারা আরও বলেন- বরকলের ভূষণছড়ায় বাঙালী হত্যার দায়ে সেই দিনের সেই খুনী মেজর রাজেশকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রদান করতে হবে; নইলে ভষ্যিতে আরও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারী প্রদান করেন বক্তারা।

মানবন্ধনের সমাবেশে বক্তব্যে রাখেন- নির্যাতিত রাঙামাটিবাসীর ব্যানারে সেই দিনের সেই ভূষণছড়া হত্যাকান্ডের সময় মেজর রাজেশ তথা মনি স্বপন বাহিনীর হাতে আহত মো জসিম উদ্দিন, রাজ্জাক মিয়া, শাহ জালাল, মিনারা বেগমসহ অন্যান্যরা।